অটিজম ও মানবতা: সমান মর্যাদার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত

গাজী মুনছুর আজিজ

প্রকাশিত 06, Apr. 2026 12:40 am

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে “অটিজম ও মানবতা: সমান মর্যাদার বাংলাদেশ শীর্ষক একটি রাউন্ডটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা, তাদের মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা। জাতিসংঘ ঘোষিত এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো “Autism and Humanity – Every Life Has Value।”

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ফাউন্ডেশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনোভেশনস ইন টেকনোলজি অ্যান্ড হেলথ ( faith Bangladesh) এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে Orbis International এবং ইননার হুইল ডিস্ট্রিক্ট ৩৪৫-এর অধীনে তিনটি ক্লাব—আইডব্লিউসি আরুশি, লোবেলিয়া এবং ওয়েসিস ঢাকা। ২০১৪ সাল থেকে ফাইথ Bangladesh অটিজম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের উন্নয়নে কাজ করে আসছে। তাদের উদ্যোগ “Brighter Life School” এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. তরিকুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইননার হুইল ডিস্ট্রিক্ট ৩৪৫-এর চেয়ারম্যান মিসেস মুশায়লা করিম এবং ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. সবুর খানের পক্ষে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (স্কিলস) ড. কে. এম. হাসান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন faith Bangladesh-এর চেয়ারম্যান ড. আফতাব উদ্দিন । সঞ্চালনা করেন faith Bangladesh এর নির্বাহী পরিচালক ও আইডব্লিউসি আরুশি এর প্রেসিডেন্ট নিলুফার আহমেদ করিম।
রাউন্ডটেবিলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, সেবামূলক সংগঠন, চিকিৎসা পেশাজীবী, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং অভিভাবকদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. ইমদাদুল হক তালুকদার, অধ্যাপক তাহমিনা আখতার টফি, অধ্যাপক শারমিন আহমেদ, ফারাহনাজ কাইয়ুম, সাজেদা আক্তার, শামীমা সিরাজী, প্রতীক ইজাজ, ফারহানা নাজনিন, সায়েদা মুনীরা ইসলাম, ফারজানা আবেদিন, মারুফা হোসেন, মারিয়াম মনোয়ার, কোহিনূর আক্তার এবং শিক্ষার্থী গবেষক স্বপরাজিতা তালুকদার অধরা, সহ আরও অনেকে।
আলোচনায় বক্তারা সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সিভিল সোসাইটি, সেবা প্রদানকারী এবং পরিবারের ভূমিকা তুলে ধরেন। অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং একটি কার্যকর ফোরাম গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন যে সামাজিক কুসংস্কার, বৈষম্য এবং সচেতনতার অভাব অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, অটিজম শুধু স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক ইস্যু। বৈশ্বিক গবেষণার আলোকে তারা উল্লেখ করেন যে অটিজম শিশুদের অভিভাবকদের মানসিক চাপ তুলনামূলক বেশি, যা বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশেষ অতিথি মিসেস মুশায়লা করিম বলেন, ইননার হুইল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যা বন্ধুত্ব, সেবা এবং মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করে। তিনি নারীদের ও শিশুদের উন্নয়নে সংগঠনটির অবদান তুলে ধরেন।
ড. কে. এম. হাসান “Autism to Earning Program”-এর মাধ্যমে অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য টেকসই জীবিকা তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিশেষায়িত স্কিল ট্র্যাক এবং স্কিল ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব দেন এবং এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, অটিজম মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এটিকে একটি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্যে সরকার, এনজিও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সচেতনতা বৃদ্ধি, কুসংস্কার দূরীকরণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর জোর দেন।
সঞ্চালক নিলুফার আহমেদ করিম তার সমাপনী বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন যে এ ধরনের উদ্যোগ এককালীন কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিদের মর্যাদা, অধিকার এবং সমান মূল্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈচিত্র্যময় ও টেকসই সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।